ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাস 1947–1954 | Best Story

বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৫৪)

বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের একটি ছোট্ট দেশ,যার তিন পাশ ঘিড়ে রেখেছে ভারত।আসলে ১৯৪৭ সালের পূর্বে বাংলাদেশ এবং ভারতের কোনো আলাদা বর্ডার ছিল না। প্রায় ২০০ বছরের শাষনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালে ইংরেজরা যখন ইংল্যান্ডে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন তারা ভারত উপমহাদেশকে ভেঙ্গে দুটি দেশে রুপান্তর করে।
১.ভারত
২.পাকিস্তান

তারা এই কাজটি করেই ক্ষান্ত বসেনি । তারা পাকিস্তানকে দুটি অংশে ভাগ করে দিয়ে যায়।
১.পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ)
২.পশ্চিম পাকিস্তান

এই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে ছিল প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার ভারত। আর পাকিস্তানের প্রধান প্রশাসন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের শাষনকর্তা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার। এভাবেই বাংলাদেশের ইতিহাস শুরু।

বাংলাদেশের ইতিহাস

ভাষা আন্দোলনের সূচনাঃ

পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের শাষনভার পেয়েই শুরু করেছিল অত্যাচার। শাসনভার তাদের হাতে ছিল বলে আমাদের নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করাই যেন ছিল তাদের কাজ। এসবের পরেও বাঙ্গালিরা ছিল নিশ্চুপ। তারা কোনো প্রতিবাদ করে নাই। তবে পাকিস্তানি সরকার তখন সীমা অতিক্রম করল যখন ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে স্যার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পাকিস্তানের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে প্রস্তাব করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস

এবং তা নাকোচ করে পার্লামেন্ট এবং তার ই কিছু দিন পর । বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ততকালীন রাস্ট্রপতি মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে ভাষন দেন। “Urdu and urdu would be the only state language of Pakistan.”। ( ঊর্দু এবং ঊর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাস্ট্র ভাষা)। সেই ভাসনে অবস্থানরত সকল মানুষ এর বিরোধিতা করলেও জিন্নাহ সাহেব তার কথায় অটল থাকলেন। বাঙ্গালিরা এত বছরের ক্ষোভ ও রাগ থেকে এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন সভা সমাবেশ, আন্দোলন ও হরতালের মাধ্যমে। যেটা বাংলাদেশের ইতিহাস এক অধ্যায়কর ঘটনা।

এদের নেতৃত্বদেন ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম লীগের প্রধান এ কে ফযলুল হক, সাধারন সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান সহ আরো অনেকে। তাদের কথায় উতসাহিত হয়ে এগিয়ে আসে পুরো বাংলাদেশের সকল আমজনতা। তবে এ আন্দোলনে ছাত্রেদের ভূমিকা সর্বাধিক।মূলত ছাত্রদের দ্বারাই এই আন্দোলনের শুরু।
১৯৫১ সালে এদিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে ইতিবাচক। এই প্রথম ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১১ মার্চ উদ্যাপনের প্রস্ত্ততি চলে। সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে ওই দিন সব শিক্ষায়তনে ধর্মঘট পালিত হয়। সংগ্রাম কমিটির প্রচারিত এক ইশতেহারে বলা হয়: ‘বন্ধুগণ, আসুন, আমরা ১১ মার্চ আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কে স্মরণ করে পুনরায় লৌহদৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে ঘোষণা করতে কতৃর্পক্ষকে বাধ্য করি।’ নারায়ণগঞ্জসহ দেশের একাধিক শহরে সেবার ১১ মার্চ সভা, সমাবেশ, মিছিলসহ উদ্যাপিত হয়। আবার স্লোগান ওঠে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই।’এভাবেই চলে আসে ১৯৫২ সাল। মূলত ১৯৫১ সাল থেকেই একটি বড় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এবং এর উদ্যোগ নিইয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ। ২০ ফেব্রুয়ারি মিটিং করে সিধ্বান্ত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাংগনে একত্রিত হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়।সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃত্ব দেন আবদুল মোমিন। ফকির শাহাবুদ্দিন আহমেদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম। বাংলাদেশের ইতিহাস এ ২১ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টায় পূর্ব নির্ধারিত যায়গায় সকলে জমা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে থাকে । তবে কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে। এতে পুলিশ কাদানে গ্যাস ও গোলাগুলি শুরু করলে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সেসময় নিহত হন। অই সময়েই অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান।

ডোমেইন হোস্টিং কি? ব্যান্ডউইথ, সাবডমেইন, ডেটাবেজ কি!

২৩ শে ফেব্রুয়ারিঃ

২৩ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা শহীদ মিনারের কাজ শুরু করে। শেষ হয় পরদিন ভোরে। সেখানে হাতে লেখা একটা কগজে লেখা হয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।এই ১০ ফুট উচু ও ৬ ফুট চওড়া শহীদ মিনার তৈরির তদারকিতে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার শরফদ্দিন। নকশা তৈরি করেন বদিউল আলম সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার।

২৬ ফেব্রুয়ারিঃ

২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ঘিড়ে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।এরপর ঢাকা কলেজেও আরেকটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয় এবং সেটাও ভেঙ্গে বর্বররা। পরে বাংলাকে স্বীকৃ্তি দিলে ১৯৫৭ সালে সরকারি ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।

যুক্তফন্টঃ

বাংলাদেশের ইতিহাস এ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর নেওয়া হলেও। পরবর্তীতে আওয়ামী মুসলিম লীগ(মাওলানা ভাসানী) ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে। কৃষক শ্রমিক পার্টি (শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক), পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল, ও পাকিস্তান খিলাফত দল একসাথে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। সাথে আরো ছিল মৌলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি। বামপন্থী গনতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং মাহমুদ আলি সিলেটি। এই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী ইশ্তেহার দেয় ২১ দফার। ঐ ইশতেহারের মধ্যে প্রধান দাবি ছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া, ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা। ভাষা শহীদদের স্মৃতিরক্ষার্থে শহীদ মিনার নির্মাণ করা ইত্যাদি।সেই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।

১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে।নির্বাচনে মোট ৩০৯ টি আসনের মধ্যেমস্লিম আসন পায় ২৩৭ টি এবং এই আসনের মধ্যে যুক্তফ্রেন্ট পায় ২২৩ টি। আবার এ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল। এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস লাভ করেছিল ২৪টি আসন, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড পগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করেছিল। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন।

১৯৫৪ সালের ৩ রা এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে তারিখে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক।

আজকে বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৫৪) নিয়ে আলোচনা করেছি। সামনে পরের বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করবো।

আরও পড়ুন, অস্ট্রেলিয়া কে গরু ধোয়া করে বাড়ি পাঠালো বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button